গত বছর আমি একটা গ্লোবাল "Youth Conference" এ যোগদেয়ার জন্যে কানাডা যাই এবং সেখানে আমার একজন স্পিকার ছিলো যার নাম "Jerome Jaree" আমাদের ভাষায় সে একজন ইন্টারনেট সেলিব্রেটি। আর যেহেতু সে একজন সেলিব্রেটি তাই সুযোগ না হারিয়ে আমি তার সাথে একটা সেলফি তুলে ফেলি। কিছুদিন আগে আমি দেখতে পাই একটা ভিডিও বার বার অনেকে শেয়ার দিচ্ছে। দেখার খুব ইচ্ছে জাগলো মনে তাই ভিডিও টা ওপেন করলাম এবং দেখে তো আমি অবাক আরে এটাতো সেই "Jerome Jaree" যার সাথে আমার সেলফি আছে।
যাই হোক ভিডিও টা দেখা শুরু করলাম দেখি এই ভিডিও টা সোমালিয়া কে নিয়ে। আমরা হয়ত অনেকে জানিনা এই মুহুর্তে সোমালিয়াতে একটা দূর্ভিক্ষ চলছে। সেই দেশের মোট যে জনসংখ্যা আছে তার অর্ধেকের বেশী মানুষ খাদ্য অভাবে রয়েছে! এবং কিছু দিন আগে একটা খবর বের হয়েছিলো যে পানির অভাবে একজন শিশু মারা যায়। এই খবর টা দেখে Jerome সাথে সাথে "GOOGLE" করে এবং পথ খুঁজতে থাকে কিভাবে সোমালিয়ার মানুষদের কে সাহায্য করা যায়। যা ভাবা সেই কাজ নেমে পড়লেন তিনি কিন্তু সাহায্য তো দূরে থাক সে দেখে সোমালিয়াতে কোনো ফ্লাইটই ল্যান্ড করে না, কোনো এয়ারলাইন্স সেখানে যায় না। সে অনেকটা ঘাবড়ে যায় কিন্তু হাল ছেড়ে না দিয়ে চেষ্টা করতে থাকে কিভাবে কি করা, পেয়েও গেলো এমন একটা এয়ারলাইন্স যা শুধু সোমালিয়া যায় আর সেটার নাম হলো "Turkish Airlines" এটা দেখে সে সাথে সাথে তার মোবাইল বের করে একটা ভিডিও করে এবং সেই ভিডিও তে সোমালিয়ার অবস্তা তুলে ধরে এবং কিভাবে সেখানকার মানুষদের কে সাহায্য করা যায় সেই চেষ্টা করে এছাড়াও ভিডিও তে সে একটা হ্যাস ট্যাগ ব্যাবহার করে যা হলো : #TurkishAirlinesHelpSomalia
সে Turkish Airlines কেও একটা বার্তা পাঠালেন সোমালিয়া কে সাহায্য করার জন্যে, মুহুর্তের মধ্যে তার ভিডিও টি অনেক শেয়ার পায় এবং সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো এটাই তার ভিডিও টা দেখে Turkish Airlines কতৃিপক্ষ Jerome এর সাথে কথা বলে এবং তারাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। সেই সময় সোমালিয়াতে তুর্কিস এয়ারলাইন্সের কিছু কার্গো বিমান যায় এবং Jerome এর ভিডিও টি প্রকাশ পাওয়ার পর ৬০ টন জায়গা জেরোমের নামে সাহায্য ত্রাণের জন্যে বরাদ্দ করা হয়। এতে করে জেরোম এবং তার ক্যাম্পিংএ যারা ছিলো তারা বিমান পেয়ে গেলো, বিমানে ৬০ টন জায়গাও পেয়ে গেলো। এখন কথা হচ্ছে এই যে জায়গা পেলো এটার জন্যেতো খাদ্যের দরকার, রিলিপ দেয়া দরকার এবং এটার জন্যে অনেক টাকার প্রয়োজন, তাই তারা সবাই মিলে ক্রাউড ফান্ডিং শুরু করে এর মানে হচ্ছে সবাই মিলে টাকা কালেকশন করা তাও আবার অনলাইন বার্তার মাধ্যমেই। তারা প্লান করে ১০ দিনের মধ্যে $1 মিলিয়ন ডলার জমা করতে হবে অর্থাৎ ৮ কোটি টাকা এবং আরো আশ্চর্যের ব্যাপার হলো মাত্র ৩ দিনের মধ্যে ২ মিলিয়ন ডলার জমা হয়ে গেছে তার মানে প্রায় ১৬ কোটি টাকা। এই ভিডিও টি দেখে আমি ভাবতে থাকি মানুষ অনলাইন কে কাজে লাগিয়ে কত ভাল ভাল কাজ করতে পারছে আর আমি এখনো সেই সেলফি তোলা নিয়েই আছি। তার এই ছোটো ভিডিওটি সোমালিয়ার কয়েক মিলিয়ন মানুষের জীবন বদলে দেয়। আর এই ভিডিওটির মাধ্যমে আমিও বুঝতে পারি ইন্টারনেট শক্তি কি।