
Sign up to save your podcasts
Or


আপনাদের কখনো মনে হয়েছে কিছু বছর আগেও বাড়ি বাড়ি যারা জল দিত ভোর বেলায় সেই "ভারী কাকু" রা কোথাও গেল?কিভাবেই বা এই ভারী কাকু দের এই কর্মপ্রবাহে আবির্ভাব? সেই তথ্য জানতে আজ কথায় কথায়,'একটি অজানা গল্প' শুনতে হবে।
মেল ট্রেন হোক বা লোকাল—প্রায় সর্বত্রই সহজেই মেলে বোতলবন্দি পানীয় জল। এক্সপ্রেস বা মেল ট্রেনে এই জল সরবরাহের ভার থাকে রেল কর্তৃপক্ষের ক্যাটারিং সংস্থার হাতে। লোকালে ভরসা হকাররাই। অথচ রেলযাত্রার শুরুর সময়ে বিষয়টি মোটেও এমন ছিল না। দীর্ঘ ট্রেনযাত্রায় সঙ্গে পানীয় জল না থাকলে বা শেষ হয়ে গেলে মহা আতান্তরে পড়তেন আম জনতা। কারণ এদেশে রেল চলাচলের শুরুর পর্বে স্টেশনগুলিতে পানীয় জলের কোনওরকম ব্যবস্থা ছিল না। অথচ যাত্রীদের যে জলের দরকার, সেকথা বিলক্ষণ বুঝতে পারছিলেন কর্তাব্যক্তিরা। বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসে রেল কর্তৃপক্ষ। শুধু জলের ব্যবস্থা করলেই তো হবে না, কাদের উপর এই জল দেওয়ার ভার থাকবে, সেটাও ভাবনার বিষয়। কারণ, সেই সময়ে সবার ছোঁয়া সবাই খেতেন না। অতএব দীর্ঘ ভাবনাচিন্তার পর ‘জলচল’ হিসেবে ঠিক করা হল হিন্দুস্থানী ব্রাহ্মণদের। কারণ তাঁদের ছোঁয়া খেতে কোনও সম্প্রদায়ের কোনও বাধা নেই। এই হিন্দুস্থানী ব্রাহ্মণদের পদবি ছিল ‘পাঁড়ে’। জল দেওয়ার কাজের ভার বর্তানোর ফলে ‘পানি’র সঙ্গে জুড়ে গেল ‘পাঁড়ে’। তাঁদের নতুন নাম হল ‘পানিপাঁড়ে’। জল দেওয়ার কাজে এই ‘পানিপাঁড়ে’দের নিয়োগ করলেন রেলকর্তারা। স্টেশনে ট্রেন ঢুকলেই তাঁরা একটা তিন চাকাওয়ালা ছোট্ট ঠেলাগাড়িতে লোহার একটা জলের ট্রাঙ্ক নিয়ে তাঁরা স্টেশনের এমাথা-ওমাথা ঘুরতেন আর ‘পিনেকা পানি’, ‘পিনেকা পানি’ বলে হাঁক পাড়তেন। যাত্রীরা কেউ স্টেশনে নেমে, কেউ আবার ভিতরে বসেই জানলা দিয়ে তাঁদের কাছে জল চাইতেন। ‘পানিপাঁড়ে’রা যাত্রীদের জল দিতেন মাটির ভাঁড়ে। রবীন্দ্রনাথের লেখায় বা কাজী নজরুল ইসলামের কবিতাতেও এঁদের উল্লেখ মেলে। ‘পানিপাঁড়ে’দের দেখা মিলত মার্টিন রেলেও। পরে স্টেশনে স্টেশনে জলের ব্যবস্থা চালু হলে কমতে থাকে ‘পানিপাঁড়ে’দের চাহিদা। পরে একসময় এই পদটিই তুলে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ।
অপ্রকাশিত ছন্দে ইতি, তোমাদের অর্ণব।এখানে আমি তুমি আর কিছু কথা চলো সাজিয়ে রেখেছি।
শেষটি অবশ্যই শুনবেন আশা রাখি।দরকারে skip করেই শুনবেন।
তথ্যসূত্র:বর্তমান পত্রিকা।
পাঠে:অর্ণব।
মুলভাষা:বাংলা
নতুন পর্ব কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না।
আপনাদের প্রতিক্রিয়া জানার অপেক্ষায় রইলাম,এপারে
Facebook:
Https://facebook.com/EtiTomaderArnab
Insta:
Https://instagram.com/eti_tomader_arnab
By ARNAB CHAKRABORTYআপনাদের কখনো মনে হয়েছে কিছু বছর আগেও বাড়ি বাড়ি যারা জল দিত ভোর বেলায় সেই "ভারী কাকু" রা কোথাও গেল?কিভাবেই বা এই ভারী কাকু দের এই কর্মপ্রবাহে আবির্ভাব? সেই তথ্য জানতে আজ কথায় কথায়,'একটি অজানা গল্প' শুনতে হবে।
মেল ট্রেন হোক বা লোকাল—প্রায় সর্বত্রই সহজেই মেলে বোতলবন্দি পানীয় জল। এক্সপ্রেস বা মেল ট্রেনে এই জল সরবরাহের ভার থাকে রেল কর্তৃপক্ষের ক্যাটারিং সংস্থার হাতে। লোকালে ভরসা হকাররাই। অথচ রেলযাত্রার শুরুর সময়ে বিষয়টি মোটেও এমন ছিল না। দীর্ঘ ট্রেনযাত্রায় সঙ্গে পানীয় জল না থাকলে বা শেষ হয়ে গেলে মহা আতান্তরে পড়তেন আম জনতা। কারণ এদেশে রেল চলাচলের শুরুর পর্বে স্টেশনগুলিতে পানীয় জলের কোনওরকম ব্যবস্থা ছিল না। অথচ যাত্রীদের যে জলের দরকার, সেকথা বিলক্ষণ বুঝতে পারছিলেন কর্তাব্যক্তিরা। বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসে রেল কর্তৃপক্ষ। শুধু জলের ব্যবস্থা করলেই তো হবে না, কাদের উপর এই জল দেওয়ার ভার থাকবে, সেটাও ভাবনার বিষয়। কারণ, সেই সময়ে সবার ছোঁয়া সবাই খেতেন না। অতএব দীর্ঘ ভাবনাচিন্তার পর ‘জলচল’ হিসেবে ঠিক করা হল হিন্দুস্থানী ব্রাহ্মণদের। কারণ তাঁদের ছোঁয়া খেতে কোনও সম্প্রদায়ের কোনও বাধা নেই। এই হিন্দুস্থানী ব্রাহ্মণদের পদবি ছিল ‘পাঁড়ে’। জল দেওয়ার কাজের ভার বর্তানোর ফলে ‘পানি’র সঙ্গে জুড়ে গেল ‘পাঁড়ে’। তাঁদের নতুন নাম হল ‘পানিপাঁড়ে’। জল দেওয়ার কাজে এই ‘পানিপাঁড়ে’দের নিয়োগ করলেন রেলকর্তারা। স্টেশনে ট্রেন ঢুকলেই তাঁরা একটা তিন চাকাওয়ালা ছোট্ট ঠেলাগাড়িতে লোহার একটা জলের ট্রাঙ্ক নিয়ে তাঁরা স্টেশনের এমাথা-ওমাথা ঘুরতেন আর ‘পিনেকা পানি’, ‘পিনেকা পানি’ বলে হাঁক পাড়তেন। যাত্রীরা কেউ স্টেশনে নেমে, কেউ আবার ভিতরে বসেই জানলা দিয়ে তাঁদের কাছে জল চাইতেন। ‘পানিপাঁড়ে’রা যাত্রীদের জল দিতেন মাটির ভাঁড়ে। রবীন্দ্রনাথের লেখায় বা কাজী নজরুল ইসলামের কবিতাতেও এঁদের উল্লেখ মেলে। ‘পানিপাঁড়ে’দের দেখা মিলত মার্টিন রেলেও। পরে স্টেশনে স্টেশনে জলের ব্যবস্থা চালু হলে কমতে থাকে ‘পানিপাঁড়ে’দের চাহিদা। পরে একসময় এই পদটিই তুলে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ।
অপ্রকাশিত ছন্দে ইতি, তোমাদের অর্ণব।এখানে আমি তুমি আর কিছু কথা চলো সাজিয়ে রেখেছি।
শেষটি অবশ্যই শুনবেন আশা রাখি।দরকারে skip করেই শুনবেন।
তথ্যসূত্র:বর্তমান পত্রিকা।
পাঠে:অর্ণব।
মুলভাষা:বাংলা
নতুন পর্ব কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না।
আপনাদের প্রতিক্রিয়া জানার অপেক্ষায় রইলাম,এপারে
Facebook:
Https://facebook.com/EtiTomaderArnab
Insta:
Https://instagram.com/eti_tomader_arnab