২২ বছর আগের সেই ঘটনার স্মৃতি নাড়া দিলে আজও গর্বে বুকে হাত ঠেকায় দেশবাসী। শত শহিদের রক্তের বিনিময়ে সেদিন দেশের জমি ফিরিয়ে এনেছিলেন আমাদের জওয়ানরা। ২৬ শে জুলাই ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা একটি দিন।
এই দিনটির মাহাত্ম্য আর সব সাধারণ দিনের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এটি এমন একটা দিন যেদিন ভারতের বীর সৈনিকরা জাতির জন্য লড়াই করে শহীদ হয়েছিলেন। কী ঘটেছিল সেদিন?
১৯৯৯ সালে লাহোর ঘোষণার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পরে, ওই বছরেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গোপনে নিয়ন্ত্রণ রেখা বা LOC লঙ্ঘন করে ভারতে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে তাদের শিবির স্থাপন করে। নিয়ন্ত্রণ রেখা বা LOC হল ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্তরেখা। টহল দিতে গিয়ে পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ভারতীয় সেনা।
আগে থেকেই সুযোগ বুঝে ছক করে বসেছিল অনুপ্রবেশকারীরা। সংঘর্ষে যা তাঁদের প্রথমে বাড়তি সুবিধা দেয়।
৫ মে, পাঁচ ভারতীয় জওয়ানকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পাক অনুপ্রবেশকারীরা। ৯ মে, পাকিস্তানি সেনা কার্গিল সেক্টরে ভারতীয় সেনা ছাউনি লক্ষ্য করে ভারী গোলা বর্ষণ শুরু করে।
এই খবর ভারতের কাছে আসার পর ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা ভারত তখন নিজভূমকে রক্ষার তাগিদে কঠোর হয়। স্থানীয় শেফার্ডদের থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এরপর অনুপ্রবেশকারীদের আক্রমণের স্থান চিহ্নিত করে ফেলে ভারতীয় সেনারা। তাই, পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীদের আটকাতে শুরু করা হয় "অপারেশন বিজয়"।
১০ মে, থেকে পুরোদমে শুরু হয় যুদ্ধ। যুদ্ধে যোগ্য জবাব দেয় ভারতীয় সেনা। ১৮ হাজার ফুট উচ্চতায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যুদ্ধ চালায় ভারতীয় সেনা।
প্রায় দু'মাস ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলেছিল এই যুদ্ধ। জম্মু ও কাশ্মীরের কার্গিল দ্রাস সেক্টরে হয়েছিল এই যুদ্ধ। এর ফলে বহু ভারতীয় সেনা শহীদ হয়েছিলেন।প্রায় ৫৩০ ভারতীয় সেনা বীরের মতো নিজেদের জীবন দিয়েছিলেন, পাশাপাশি আহত হয়েছিল প্রায় ১৩০০-রও বেশি ভারতীয় সেনা।
সাহসের সহিত যুদ্ধ চালিয়ে ভারতীয় সেনারা ফিরিয়ে আনেন জম্মু-কাশ্মীরের কার্গিল জেলার বেদখল অঞ্চলগুলি। ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সের সহায়তায়, ভারতীয় সেনারা দু'মাসের মধ্যে তাদের দখল করা অঞ্চলগুলির ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পুনরায় দখল করে এবং বাকি ২০-২৫% আন্তর্জাতিক চাপে পাকিস্তান ভারতে হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়। পিছু হঠতে বাধ্য হয় পাকিস্তানী সেনারা।
২ মাস, ৩ সপ্তাহ, ২ দিন ধরে যুদ্ধ চলার পর,
"অপারেশন বিজয়ে" বিজয় ঝান্ডা উড়িয়ে শেষ পর্যন্ত অনুপ্রবেশকারীদের হারাতে সক্ষম হয়েছিল ভারতীয় সেনা। ১৯৯৯-এর ২৬ জুলাই, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী কার্গিল বিজয়ের কথা ঘোষণা করেন।
তাই, এই যুদ্ধের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই প্রতি বছর দেশজুড়ে এই দিবসটি পালিত হয়। যা আমাদের কাছে কার্গিল বিজয় দিবস নামে পরিচিত।