Eti,Tomader Arnab (Bengali Educational Podcast)

Sadher lau // সাধের লাউ


Listen Later

হুগলির জাঙ্গিপাড়ার পশপুর। সঙ্গীত-বাদ্যযন্ত্রপ্রেমীদের কাছে এই গ্রামের পরিচয় অবশ্য ‘লাউগ্রাম’ নামে। কেন এই নাম? তার নেপথ্যে আছেন গ্রামেরই এক বাসিন্দা—গণেশচন্দ্র রায়। পেশায় লাউচাষি। তার পরেও নিজেকে বাদ্যযন্ত্র শিল্পীর পর্যায়ে উন্নীত করেছেন তিনি। লাউখোল দিয়ে তৈরি সেতার, তানপুরা, বীণার মতো বাদ্যযন্ত্রের টিউনারও তিনি। কিন্তু কীভাবে এই পর্বের সূত্রপাত? তা জানতে ফিরে তাকাতে হবে অতীতের দিকে। সেই সময়ে বাদ্যযন্ত্র তৈরির জন্য উপযুক্ত লাউ এরাজ্যে পাওয়া যেত না। তা আসত মহারাষ্ট্রের মিরাজ বা পাণ্ডলপুর থেকে। ব্যবসার সুবাদে দিল্লি, মুম্বই, এলাহাবাদ, লখনউ, অমৃতসরের মতো নানান জায়গায় ঘুরতেন গণেশবাবু। সেই সুবাদেই মহারাষ্ট্র থেকে বাদ্যযন্ত্র তৈরির জন্য লাউয়ের বীজ নিয়ে আসেন তিনি। সফল হল উদ্যোগ। জন্মাল নতুন প্রজাতির লাউ। এরপরই কলকাতার বাদ্যযন্ত্র প্রস্তুতকারীদের মধ্যে বাড়তে থাকে এই লাউয়ের চাহিদা। তাঁর তৈরি লাউ পরে মহারাষ্ট্রকে পিছনে ফেলে দেয়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বাজার। বিভিন্ন মাপের শুকনো লাউখোল দিয়ে তৈরি করা হতো তানপুরা, লেডিজ তানপুরা, বীণা, সুরবাহার, সেতারের মতো বাদ্যযন্ত্র। এখন অবশ্য সে সময় আর নেই। ইলেক্ট্রনিক ইনস্ট্রুমেন্টের দাপটে কদর কমেছে লাউয়ের। ফলে চাষ ও ব্যবসা দুটোই কমেছে। আগে জাঙ্গিপাড়ার একাধিক জায়গায় এই লাউয়ের চাষ হলেও এখন চাষ হয় মূলত পশপুরেই। এমনকী, গণেশবাবুর লাউচাষের জমিতেও এখন বিকল্প চাষ হয়। তবে বাদ্যযন্ত্র তৈরির লাউয়ের খোল এখনও বিক্রি করেন তিনি। আক্ষেপ তাঁর একটাই— লাউখোল দিয়ে তৈরি বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা নেই ভারতীয়দের। বরং এনিয়ে বিদেশিদের আগ্রহ অনেক বেশি।


তথ্যসূত্র:বর্তমান পত্রিকা।

সূত্রধর: অর্ণব


Facebook:

https://facebook.com/EtiTomaderArnab


Insta:

https://instagram.com/eti_tomader_arnab


Youtube:

https://youtube.com/@etitomaderarnab8304

...more
View all episodesView all episodes
Download on the App Store

Eti,Tomader Arnab (Bengali Educational Podcast)By ARNAB CHAKRABORTY