
Sign up to save your podcasts
Or


‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা...’। জীবনানন্দ দাশ এবং বনলতা সেন যেন সমার্থক হয়ে গিয়েছেন বাংলার আপামর পাঠকের কাছে। আর এই বনলতা সেনের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছেন বিখ্যাত আলোকচিত্রী শম্ভু সাহা। পাঠককূলের সিংহভাগ সত্যজিৎ রায়ের তৈরি প্রচ্ছদের সঙ্গে পরিচিত থাকলেও শম্ভু সাহার নাম জানেন এমন মানুষ মেলা ভার। জানলে হয়তো অবাক হবেন, বইটির প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ তৈরি করেছিলেন তিনি। আপাতবিস্মৃত এই মানুষটি একসময় শান্তিনিকেতন এবং রবি ঠাকুরের ছবি তুলে আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেছিলেন। তাঁর সম্পাদিত Faces and Places of Visva Bharati বইটিতে এরকম বহু আলোকচিত্রের হদিশ মেলে।
এবার শম্ভু সাহার রূপ দেওয়া বনলতা সেনের প্রথম প্রচ্ছদের কথায় আসা যাক। ১৯৪২ সালে প্রকাশ পায় ‘বনলতা সেন’-এর প্রথম সংস্করণ। বইটির ব্রাউন কভারের প্রচ্ছদে লাল রঙে আঁকা এক মহিলার ছবি। সামান্য ক’টি আঁচড়ে ফুটে উঠেছে পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে থাকা এক মহিলার অবয়ব। কিন্তু অদ্ভুতভাবে তাঁর ওই প্রচ্ছদ নিয়ে কোথাও কোনও চর্চা হয়নি। এমনকী জীবনানন্দকেও কোনও মন্তব্য করতে শোনা যায়নি। অন্যদিকে, সিগনেট থেকে প্রকাশিত বনলতা সেনের দ্বিতীয় সংস্করণের প্রচ্ছদের সঙ্গেই আমরা কমবেশি সকলেই পরিচিত। সেই প্রচ্ছদ তৈরির ভার পড়েছিল বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের উপর। কিন্তু দক্ষ প্রচ্ছদশিল্পী সত্যজিতের সেই প্রচ্ছদ পছন্দ হয়নি স্বয়ং কবির। সুরজিৎ দাশগুপ্ত এবং বোন সুচরিতা দাশকে লেখা চিঠিতে কবির ক্ষোভ ফুটে উঠেছে। জীবনানন্দ-গবেষক গৌতম মিত্রের লেখা থেকে জীবনানন্দের সেই ক্ষোভের কথা জানা যায়। ১৯৫২ সালে বই প্রকাশের তিনমাসের মধ্যেই তিনি সুরজিৎ দাশগুপ্তকে লেখেন, ‘বনলতা সেনের প্রচ্ছদ দেখে আমি অত্যন্ত হতাশ। এত খারাপ প্রচ্ছদপট আমি জীবনে দেখিনি।’ বোন সুচরিতাকে লিখেছিলেন, ‘কাগজ-ছাপা-বাঁধাই সব ভালো; কিন্তু ছবিটা আমার আদৌ পছন্দ হয়নি।’
তথ্যসূত্র:বর্তমান পত্রিকা।
সূত্রধর: অর্ণব
Facebook:
https://facebook.com/EtiTomaderArnab
Insta:
https://instagram.com/eti_tomader_arnab
Youtube:
https://youtube.com/@etitomaderarnab8304
By ARNAB CHAKRABORTY‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা...’। জীবনানন্দ দাশ এবং বনলতা সেন যেন সমার্থক হয়ে গিয়েছেন বাংলার আপামর পাঠকের কাছে। আর এই বনলতা সেনের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছেন বিখ্যাত আলোকচিত্রী শম্ভু সাহা। পাঠককূলের সিংহভাগ সত্যজিৎ রায়ের তৈরি প্রচ্ছদের সঙ্গে পরিচিত থাকলেও শম্ভু সাহার নাম জানেন এমন মানুষ মেলা ভার। জানলে হয়তো অবাক হবেন, বইটির প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ তৈরি করেছিলেন তিনি। আপাতবিস্মৃত এই মানুষটি একসময় শান্তিনিকেতন এবং রবি ঠাকুরের ছবি তুলে আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেছিলেন। তাঁর সম্পাদিত Faces and Places of Visva Bharati বইটিতে এরকম বহু আলোকচিত্রের হদিশ মেলে।
এবার শম্ভু সাহার রূপ দেওয়া বনলতা সেনের প্রথম প্রচ্ছদের কথায় আসা যাক। ১৯৪২ সালে প্রকাশ পায় ‘বনলতা সেন’-এর প্রথম সংস্করণ। বইটির ব্রাউন কভারের প্রচ্ছদে লাল রঙে আঁকা এক মহিলার ছবি। সামান্য ক’টি আঁচড়ে ফুটে উঠেছে পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে থাকা এক মহিলার অবয়ব। কিন্তু অদ্ভুতভাবে তাঁর ওই প্রচ্ছদ নিয়ে কোথাও কোনও চর্চা হয়নি। এমনকী জীবনানন্দকেও কোনও মন্তব্য করতে শোনা যায়নি। অন্যদিকে, সিগনেট থেকে প্রকাশিত বনলতা সেনের দ্বিতীয় সংস্করণের প্রচ্ছদের সঙ্গেই আমরা কমবেশি সকলেই পরিচিত। সেই প্রচ্ছদ তৈরির ভার পড়েছিল বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের উপর। কিন্তু দক্ষ প্রচ্ছদশিল্পী সত্যজিতের সেই প্রচ্ছদ পছন্দ হয়নি স্বয়ং কবির। সুরজিৎ দাশগুপ্ত এবং বোন সুচরিতা দাশকে লেখা চিঠিতে কবির ক্ষোভ ফুটে উঠেছে। জীবনানন্দ-গবেষক গৌতম মিত্রের লেখা থেকে জীবনানন্দের সেই ক্ষোভের কথা জানা যায়। ১৯৫২ সালে বই প্রকাশের তিনমাসের মধ্যেই তিনি সুরজিৎ দাশগুপ্তকে লেখেন, ‘বনলতা সেনের প্রচ্ছদ দেখে আমি অত্যন্ত হতাশ। এত খারাপ প্রচ্ছদপট আমি জীবনে দেখিনি।’ বোন সুচরিতাকে লিখেছিলেন, ‘কাগজ-ছাপা-বাঁধাই সব ভালো; কিন্তু ছবিটা আমার আদৌ পছন্দ হয়নি।’
তথ্যসূত্র:বর্তমান পত্রিকা।
সূত্রধর: অর্ণব
Facebook:
https://facebook.com/EtiTomaderArnab
Insta:
https://instagram.com/eti_tomader_arnab
Youtube:
https://youtube.com/@etitomaderarnab8304