Eti,Tomader Arnab (Bengali Educational Podcast)

Shiter Katha-kotha // শীতের কাঁথা-কথা


Listen Later

শীত পড়তে না পড়তেই বক্স খাটের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসেছে কম্বল থুড়ি আধুনিক ব্ল্যাঙ্কেট। কিন্তু একটা সময় ছিল, যখন শীতকালে লেপের আগে আসত কাঁথা। লোকে বলত—‘গ্রীষ্মের পাখা, বর্ষার ছাতা আর শীতের কাঁথা কখনও হাতছাড়া করতে নেই।’ গ্রামের দিকে অবশ্য এখনও কেউ কেউ শীত-পর্ব উতরোতে ভরসা রাখেন কাঁথাতেই। আসলে কলকাতার দিকে সেভাবে বোঝা না গেলেও কোনও কোনও বছর দুর্গাপুজোর পর থেকেই হালকা শীতের আমেজ শুরু হয়। অনেকে ক্ষয়াটে ন্যাপথলিন ঝেড়ে ফেলে তোরঙ্গ থেকে বের করেন বহুরঙা কাঁথা। দুপুরের রোদে কাঁথা মেলে, ভালো করে রোদ লাগিয়ে ভাঁজ করে রাখা হয়। শীতের রাতে ভাঁজ ভেঙে সেই কাঁথা গায়ে দেওয়ার মজাই আলাদা। কিন্তু কাঁথায় এত রং কেন? আসলে পুরনো হয়ে যাওয়া শাড়িই কাঁথা তৈরির প্রধান উপকরণ। শাড়ির রঙের সঙ্গে বদলে বদলে যেত কাঁথার রঙও। জমানো পুরনো শাড়ির সংখ্যা ছয়-সাত হলে শুরু হতো কাঁথা তৈরির প্রস্তুতি। বর্তমানে কাঁথা সেলাই করার জন্য ব্যবহৃত হয় দোকান থেকে কেনা সুতো। আগেকার দিনে অবশ্য সুতির শাড়ির পাড়গুলিকে শাড়ি থেকে ছিঁড়ে আলাদা করে তা থেকে তৈরি করা হতো সেলাইয়ের সুতো। শুধু ধরাবাঁধা গতে সেলাই করেই কাজ শেষ হতো না। শিল্পীরা যেমন রং-তুলিতে নানান ছবি ফুটিয়ে তোলেন, তেমনই মা-ঠাকুমারা সূচ-সুতোর সাহায্যে কাঁথার মধ্যে নিজেদের মনের ভাবনা ফুটিয়ে তুলতেন। উঠে আসত গ্রামের জীবন, নদীর পাড়, কাব্য-কাহিনির কথা। গ্রামে এখনও নিম্নবিত্ত পরিবারের বহু মহিলা সারা বছর কাঁথা সেলাই করে রুজিরুটির জোগাড় করেন। পাড়া-প্রতিবেশীদের থেকে কাঁথা তৈরির জন্য তাঁদের পুরনো শাড়ি সংগ্রহ করেন। সঙ্গে জেনে নেন বিভিন্ন নকশার চাহিদার কথায়। কাঁথার আকার ও নকশা অনুযায়ী ঠিক হয় মজুরি।


তথ্যসূত্র:বর্তমান পত্রিকা।

সূত্রধর: অর্ণব


Facebook:

https://facebook.com/EtiTomaderArnab


Insta:

https://instagram.com/eti_tomader_arnab


Youtube:

https://youtube.com/@etitomaderarnab8304

...more
View all episodesView all episodes
Download on the App Store

Eti,Tomader Arnab (Bengali Educational Podcast)By ARNAB CHAKRABORTY