দাদা ও দাদা তোমার কি হয়েছে আমাকে একটু বলবে। এই অন্ধকার ঘরে দিনের পরে দিন তুমি এভাবে কাটিয়ে দিচ্ছ সিগারেটের পরে সিগারেট যেন মুখে না থাকলেই হয়না আরো কত ধরনের বাজে গন্ধ তোমার ঘরে তুমি তো এমন ছিলে না হঠাৎ করে কি হল তোমার আমাকে একটু বলবে যদিও আমি সব জানি তবুও তোমার কাছে জানতে চাইছি বাবা-মা তো তোমার কোন চাওয়াই অপূর্ণ রাখেনি তাহলে তুমি কেন এমন বদলে গেলে বলতো আমাদের পাড়ায় তোমার চেয়ে মেধাবির ছাত্র আর কেউ ছিল বলে আমার জানা নেই কিন্তু তুমি এখন নিজেকে অন্ধকার ঘরে বন্ধ করে নিয়েছো এর পেছনে নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে তা না হলে তোমার মত এমন চটপটে ছেলে হঠাৎ করে কেন চুপ হয়ে যাবে। আমার কাছে লুকানোর চেষ্টা করো না আমি কিন্তু সব জানি আমি তোমাকে দেখেছি কলকাতার হরিপদ বসাক লেনের ঠিক মাঝামাঝি লাল বাড়িটার সামনে দাঁড়িয়ে তুমি কার অপেক্ষা কর বলতো আমি একদিন প্রায় দু ঘন্টা তোমাকে দেখেছি কিন্তু তোমার কাছে এলোনা ওই বাড়িতে কেউ থাকে বলতো আমি ভেবেছিলাম হয়তো তোমার কোন বন্ধুর বাড়ি হবে কিন্তু বন্ধু হলে তো এত বেশি দেরি করার কথা না আর তুমি বিশ্রাম বিহীনভাবে একটার পর একটা সিগারেট ধরিয়ে গেলে যেন তুমি তোমার সিগারেটের ধোঁয়ায় আকাশে মেঘ তৈরি করতে চাচ্ছ রঞ্জন দাদার কাছে শুনলাম তুমি নাকি ওই লাল বাড়িটার কোন এক মেয়ের প্রেমে পড়েছিল কি দাদা সত্যি তো? আমার উপর আবার ক্ষেপে বসে না আমি এখন আর ছোট নেই আমি তোমার কাছে কিছু জানতে এসেছি আমি আসলে বুঝতে পারছি না আমার কিছু সমাধান দরকার ছিল কাছের বলতে তুমি ছাড়া আমার তো আর কেউ নেই তাই ভাবলাম তোমার কাছে বলে মনটাকে একটু শান্ত করি দাদা তোমার মনে আছে আমার কলেজের প্রথম দিন আমি অনেক দেরিতে বাড়ি ফিরলাম কলেজের প্রথম দিনেই আমি বাড়ি ফিরছিলাম শুক্লা দাস লেণের প্রথম বাড়িটা? হঠাৎ করে দ্বিতীয় তলার বারান্দায় আমার চোখটা আটকে গেল একটা মেয়ে দাদা স্নান শেষ করে চুল সুকাচ্ছিল আমার কাছে প্রথম দেখাতেই মনে হল ওটা কোন মেয়ে নয় যেন সাক্ষাৎ মা লক্ষী ঘন কালো চুল টানা টানা চোখ আর বেশি বর্ণনা তোমার কাছে দেওয়া যাবে না তারপর থেকে ওই সময়টা আমি ওখানেই গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি কোনদিন দেখা পাই আবার কোনদিন পাই না দীর্ঘ তিন মাস আমি তাকে দূর থেকেই দেখে গিয়েছি তারপর একদিন মেয়েটি আমার দিকে তাকালো আমাদেরকে তাকাতেই এক মুচকি হাসি দিয়ে আমাকে মনে হয় জাদু করে ফেলেছে তারপর তারপর একদিন আমাকে একটি চিরকুট লিখে পাঠালো আমার নাম জানতে চাইলো আমার সম্পর্কে বাকি সবকিছু জানার একটা ইচ্ছা পোষণ করলো আর কি সাথে ওদের বাড়ির টেলিফোন লাইনের নাম্বারটা আমাকে দিল শেষ লাইন লিখল আমি যেন দুপুর তিনটার পর ওকে কল করি ও সময়টা ওদের বাড়ি নাকি ফাঁকা থাকে আমি আমাদের ঘরের মুখে যে টেলিফোনটা আছে ওটার মধ্যে কত টাকা উড়িয়েছে কথা বলেছি ওর সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা সে হিসেব পেলে বাবা আমার আর রক্ষে রাখবে না। তারপরে একদিন আমার আর সহ্য হলো না আমি জিজ্ঞেস করলাম বাসায় যেহেতু কেউ থাকেই না আমরা কি একটু দেখা করতে পারি ও কিছুক্ষণ চুপ থেকে আমাকে বলল কালকে বিকেল চারটে বাসার নিচে এসে দাঁড়াবে আমি বললে চট করে ভেতরে চলে আসবে দাদা বিশ্বাস কর ওর বুকের এতটা কাছে আমাকে রেখেছিল ওর চুলের গন্ধ ওর গায়ে উষ্ণতা আমাকে আর আমার থাকে দেয়নি। সেদিন লাল রঙের শাড়ি আর ভেজা চুলে কাজল মাখা চোখে বুকে দেখতে ভারী সুন্দর লাগছিল তারপর এভাবেই কতদিন যে বাসায় পড়ার কথা বলে ওই বুকে আমি সুখ খুঁজেছি তার কোন নির্দিষ্ট হিসেবে আমার কাছে নেই। সব কিছু ভালই চলছিল কিন্তু একদিন হঠাৎ ঘণ্টা পারার দু নম্বর গলিতে ওই যে একদম শুনশান গলিটা যেখানে লোকজনের একদম যাতায়াত নেই বললেই চলে সন্ধায় যখন সবাই পুজোয় ব্যাস্ত তখন দেখলাম ও একটা ছেলের ঠোট চুমু খাচ্ছে সেই দৃশ্য আমি আমার মাথা থেকে একদম নামাতে পারছি না যেন ওই দৃশ্য এখন আমার চোখে লেগে আছে দাদা তারপর অনেকদিন ওর সামনেও যায়নি একদিন আবার ওকে দুপুর বেলা কল করলাম বুঝতে পারলাম ও প্রান্তে ও অন্য কারো সাথে কথা বলায় ভারী ব্যাস্ত জানো দাদা দিনের পর দিন চেষ্টা করে গিয়েছি নিজেকে খুঁজেছি আমি নিজেকে খুঁজে পাচ্ছি না এখন শুধু মনে হয় আত্মহত্যাই যেন শেষ সমাধান।