রানওয়ে , rather abandoned runway র গল্প দিয়ে শুরু করি আজ। এই অফবিট পুরুলিয়া সেগমেন্ট, তার শুরুতে বলেছি…. শীতকাল …..লোকজন প্রচুর আসছে পুরুলিয়ায়….. ট্রেনে, গাড়িতে, বাইকে …. প্লেনে আসার একটা সম্ভাবনা থাকলে কেমন হত ? আচ্ছা, যদি বলি পুরুলিয়ায় একটা এয়ারপোর্ট আছে, আর একটু স্পষ্ট করে বললে, ছিল। তাহলে বিশ্বাস করবেন ?
আমি প্রথম ছড়ড়া এয়ারবেসের কথা যার কাছে শুনেছিলাম, তিনি বলেছিলেন এই এয়ারপোর্ট নাকি আজাদহিন্দ বাহিনীর বানানো, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস নাকি এখানে এসেছিলেন। সেটা সত্যি নয়, নেতাজি পুরুলিয়ায় এসেছিলেন, তবে অনেক আগে , সে গল্প অন্যদিন করব।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই এয়ারবেস মিত্রশক্তি শক্তি অর্থাৎ আমেরিকা, ইংল্যান্ড, রাশিয়া, চীনের যে জোট তাঁরা বানিয়েছিলেন মূলত আমেরিকার বিমানঘাঁটি হিসাবে। আমেরিকার যুদ্ধবিমান পুরুলিয়ার প্রায় পঞ্চাশ ডিগ্রি গরমের কথা ভেবে বানানো হয় নি, তাই ইঞ্জিনে আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই এয়ারবেস স্ট্র্যাটেজিক কারণেই বেশি ব্যবহার করা যায়নি, সেসব গল্প উইকিপিডিয়ায় আছে, আমি রিপিট করছি না।
শেষ প্লেন, বলা ভালো শেষ ফাইটার প্লেন, এখান থেকে ওড়ে নাইন্টিন ফর্টিফাইভে। তারপর থেকে -
রানওয়ে জুড়ে পড়ে আছে শুধু কেউ নেই শূন্যতা
আকাশে তখন থমকিয়ে আছে মেঘ
বেদনাবিধুর রাডারের অলসতা-
কিঞ্চিৎ সুখী পাখীদের সংবেগ।
এমন বিশাল বন্দরে বহুকাল
থামেনি আকাশবিহারী বিমান যান
এখানে ওখানে আগাছার জঞ্জাল
শূন্য ডাঙায় বায়ু বীতগতিবেগ।
নমস্কার আমি সৃজন। সৃজনের পডাবলীতে চলছে অফবিট পুরুলিয়ার গল্প আর আজ আমরা মহীনের ঘোড়াগুলির প্রথম album সংবিগ্ন পাখিকূল ও কলকাতা বিষয়ক থেকে রানওয়ে গান শুনতে শুনতে চলে এলাম ছড়ড়া। পুরুলিয়া থেকে আট কিলোমিটার দূরে। আপনি ভাবছেন, সৃজন তো ভাঙ্গা মন্দিরে গুপ্তধনের খোঁজ দেবে বলেছিল, তাহলে মন্দির থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, এয়ারপোর্ট এই সব কেন বলছে ? মন্দির কোথায়। আরে সেটাতেই তো আসছি, তার আগে এটা বলুন তো, তেলকূপির এপিসোডে মন্দিরের এত কথা বললাম, দেবতার কোন কথা বললাম না , আপনার মনে কোন প্রশ্ন জাগল না ? ভাবুন, এর উত্তর পরে দেব। আপাতত ছড়ড়ার কথা বলি। এখানে গিয়ে মন্দির দেখা হয়নি আমার, দেখেছি মূর্তি, জৈন তীর্থঙ্করদের। পাকবিড়া নিয়ে যে এপিসোড হবে সেটাতে পুরো ডিটেলে বলব চব্বিশজন তীর্থঙ্কর, ঋষভনাথ থেকে মহাবীর সবাইকে নিয়ে। সাথে কথা হবে তাদের সিম্বল নিয়েও।
বিনয় ঘোষের পশ্চিম বঙ্গের সংস্কৃতি বইতে দেখতে পাই ড্যাল্টন সাহেব ১৮৬৪-৬৫ এ এবং বেগলার সাহেব ১৮৭২-৭৩ তে ছড়ড়ায় দুটো মন্দির দেখেছিলেন, রেখ দেউল বা রেখা দেউল এই শ্রেণীর মন্দির। এই রেখ দেউল টাইপের মন্দির কি রকম ? পুরীতে জগন্নাথ দেবের মূলমন্দির মনে করুন। গর্ভগৃহ, আর তার উপর শিখর। রেখা অর্থাৎ স্ট্রেট লাইন থেকেই এই ধরনের মন্দিরের নাম। তেলকুপি ও তাই ছিল। উড়িষ্যার লিঙ্গরাজ মন্দির আর এক example রেখা দেউলের। এখানেই দেখতে পাই উড়িষ্যায় ও বাংলার মন্দিরের স্টাইলের মিল। অথবা বলা যায়, সে সময় এই চত্তরের সাথে নিবিড় যোগ ছিল আজকের উড়িষ্যার। ইন ফ্যাক্ট, এটাও মনে করা হয়, তেলকূপির বাণিজ্যিক সমৃদ্ধির একটা বড় কারন উড়িষ্যার যোগাযোগ। ও হো, দেখছেন তো, গল্প করতে করতে তেলকুপি ফিরে গেছি। ছড়ড়ায় ফিরি।
বিনয় ঘোষ around 1960, এখানে একটা মন্দির দেখতে পাচ্ছেন। সেটা এখনো আছে বলে শুনেছি। আমি যেখানে কাজে গেছিলাম, তার ঠিক সামনেই একটা জায়গায় দুদিকে দুটো ঘর। একটা ঘরে যে কটা মূর্তি আছে, মোটামুটি ঠিক থাকে আছে,উল্টো দিকের ঘরে সব ভাঙাচোরা। তবে সিঁদুর মাখানো, এখন হিন্দুমতে পুজো হচ্ছে, জৈন তীর্থঙ্করদের। আর পাকবিড়া ছাড়া বাকি সব জায়গায় বেশিরভাগ মূর্তিই ভাঙাচোরা দেখেছি আমি।