শীতের সকালের আলো গ্রামে আসে খুব ধীরে।হঠাৎ করে নয়, যেন কাউকে না জাগিয়ে ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে।ভোরের কুয়াশা তখনো মাঠ জুড়ে বসে থাকে।ধানক্ষেত, পুকুরপাড়, কাঁচা রাস্তা—সবকিছু ঢেকে যায় সাদা চাদরে।সূর্যটা আকাশে ওঠে ঠিকই, কিন্তু আলোটা নরম থাকে, তীব্র নয়।ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির পায়ে লাগে।খালি পায়ে হাঁটলে মনে হয় মাটি ঠান্ডা নয়, বরং স্নিগ্ধ।পুকুরের পানির উপর হালকা ধোঁয়া ওঠে,যেন জল নিজেই শীতের সাথে কথা বলছে।দূরে কোথাও একজন মানুষ খড় জ্বালিয়ে আগুন পোহায়।আগুনের চারপাশে দাঁড়ানো মুখগুলো লাল হয়ে ওঠে,কিন্তু চোখে থাকে শান্তি—তাড়াহুড়া নেই, অভিযোগ নেই।ঘরের ভেতর থেকে চুলার ধোঁয়া বের হয়।সেই ধোঁয়ার সাথে ভেসে আসে ভাতের গন্ধ,আর মায়ের ডাকার শব্দ—নরম, পরিচিত, আশ্বাসের মতো।এই সময়টায় গ্রাম খুব কম কথা বলে।পাখির ডাকও যেন নিচু স্বরে হয়।শীতের সকালের আলো কাউকে চাপ দেয় না,শুধু মনে করিয়ে দেয়—সবকিছু ধীরে হলেও সুন্দর হতে পারে।